কম বাজেটে শুরু করুন: ১০টি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া
স্বল্প পুঁজিতে নিজের ব্যবসা গড়ার জন্য প্রস্তুত? এই ১০টি আইডিয়া আপনাকে পথ দেখাবে।
বর্তমানে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের কিছু শুরু করার প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু অধিকাংশেরই চিন্তা—"বেশি টাকা না থাকলে ব্যবসা কি সম্ভব?"
উত্তর: হ্যাঁ, সম্ভব। অনেক ব্যবসা আছে যা খুব কম খরচে শুরু করা যায়, কিন্তু ঠিকভাবে চালাতে পারলে ভালো আয় হয়। নিচে এমনই ১০টি ব্যবসার কথা বলা হলো যা আপনি ৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকার মধ্যেই শুরু করতে পারেন।
১. অনলাইন পোশাক বিক্রি
বাংলাদেশে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে থ্রি-পিস, শাড়ি, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি বিক্রি করা এখন খুব জনপ্রিয়। পাইকারি দামে পোশাক কিনে ছবিসহ পোস্ট দিন, অর্ডার আসলে কুরিয়ারে পাঠান। ঘরে বসেই আয় সম্ভব।
প্রয়োজন: মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া পেইজ, কিছু প্রোডাক্ট ছবি।
প্রাথমিক খরচ: ৫,০০০–১৫,০০০ টাকা।
২. হ্যান্ডমেড পণ্য তৈরি ও বিক্রি
চিপস, আচার, কেক, সাবান, ক্যান্ডেল, জুয়েলারি — হ্যান্ডমেড পণ্যের চাহিদা এখন অনেক। আপনি যদি একটু সৃজনশীল হন, নিজেই তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন।
প্রয়োজন: কাঁচামাল, মোবাইল ক্যামেরা, ফেসবুক পেইজ।
প্রাথমিক খরচ: ৩,০০০–১০,০০০ টাকা।
৩. প্রিন্ট অন ডিমান্ড পণ্য
টি-শার্ট, মগ, ব্যাগ ইত্যাদিতে ডিজাইন ছাপিয়ে বিক্রি করা যায়। আপনাকে শুধু ডিজাইন দিতে হবে, প্রিন্ট ও ডেলিভারি কোম্পানিই করে দেবে।
প্রয়োজন: ডিজাইন আইডিয়া, ইন্টারনেট।
প্রাথমিক খরচ: ০–৫,০০০ টাকা (কোথাও কোথাও বিনা খরচেও সম্ভব)।
৪. মোবাইল সার্ভিসিং/রিপেয়ারিং
মোবাইল ফোন এখন সবার হাতে, আর সেগুলোর সার্ভিস চাহিদাও বেশি। আপনি যদি সার্ভিসিং শিখে নেন, অল্প খরচে একটি ছোট দোকান বা ঘর থেকেই শুরু করতে পারেন।
প্রয়োজন: প্রশিক্ষণ, কিছু টুলস।
প্রাথমিক খরচ: ১০,০০০–২০,০০০ টাকা।
৫. প্রাইভেট টিউশন / অনলাইন কোচিং
যারা পড়াতে পারেন, তাদের জন্য এটা সবচেয়ে লাভজনক ও কম খরচের ব্যবসা। ঘরে বসে বা অনলাইনে ক্লাস নিলেই হয়।
প্রয়োজন: সাবজেক্ট নলেজ, মোবাইল বা ল্যাপটপ।
প্রাথমিক খরচ: ০–২,০০০ টাকা (ডেটা খরচ ধরা যেতে পারে)।
৬. ইউটিউব বা কনটেন্ট ক্রিয়েশন
ভিডিও বানানো বা ছোট্ট ব্লগ লেখা যদি পারেন, ইউটিউব চ্যানেল খুলে নিয়মিত কনটেন্ট দিতে পারেন। কিছুদিন সময় নিতে পারে, কিন্তু আয় ভালো।
প্রয়োজন: স্মার্টফোন, ইন্টারনেট।
প্রাথমিক খরচ: ০–৫,০০০ টাকা।
৭. ইভেন্ট ডেকর/বেলুন ডেকোরেশন
বাচ্চার জন্মদিন, ছোট অনুষ্ঠান, বেলুন দিয়ে ঘর সাজানো এখন জনপ্রিয়। শিখে নিলে আপনি এলাকাভিত্তিক সার্ভিস দিতে পারেন।
প্রয়োজন: ডেকোরেশন আইটেম, মার্কেটিং।
প্রাথমিক খরচ: ৫,০০০–১৫,০০০ টাকা।
৮. ফুড ডেলিভারি হোম কিচেন
ঘরে রান্না করে অফিস বা ছাত্রদের কাছে পাঠান। খাবার ভালো হলে রেগুলার অর্ডার পাবেন।
এছাড়া ফুড ডেলিভারি অ্যাপে যুক্ত হওয়া যায়।
প্রয়োজন: রান্নার স্কিল, পাত্র, ফুড প্যাকেট।
প্রাথমিক খরচ: ২,০০০–১০,০০০ টাকা।
৯. মোবাইল রিচার্জ ও বিকাশ এজেন্ট
নিজের এলাকায় একটি ছোট কিয়স্ক (ছোট আকারের স্টল/বুথ বা স্বয়ংক্রিয় সেবাদানকারী মেশিন/ডিভাইস) দিয়ে শুরু করতে পারেন রিচার্জ, বিকাশ, নগদ, ফ্লেক্সিলোড সার্ভিস। ট্রাফিক বেশি হলে আয়ও ভালো।
প্রয়োজন: বিকাশ/নগদ এজেন্ট একাউন্ট, সিম, ফোন।
প্রাথমিক খরচ: ১০,০০০–২০,০০০ টাকা।
১০. ফেসবুক মার্কেটিং সার্ভিস
অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আছেন যারা ফেসবুক চালাতে পারেন না বা অ্যাড দিতে জানেন না। আপনি শিখে তাদের হয়ে কাজ করে আয় করতে পারেন।
প্রয়োজন: ডিজিটাল মার্কেটিং স্কিল, ল্যাপটপ/মোবাইল।
প্রাথমিক খরচ: ০–৩,০০০ টাকা।
শেষ কথা
ব্যবসা শুরু করতে বড় অঙ্কের টাকা দরকার—এই ধারণা ভুল। সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে কম খরচেও আপনি লাভজনক কিছু গড়ে তুলতে পারেন। শুরুটা ছোট হলেও, স্বপ্নটা বড় রাখুন।