কোম্পানির গ্রোথ অক্ষুণ্ণ রাখতে মাসের শুরু ও শেষে ছুটি নীতিমালা
১–১৫ ও ২৫–৩০ তারিখের মধ্যে ছুটি সীমিতকরণ: কেন এটি আমাদের কোম্পানি গ্রোথের জন্য জরুরি
আমি, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, আজক আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শেয়ার করেছি — এটা শুধু “ছুটি কাটা–বাড়ানো”র সিদ্ধান্ত না, বরং যেকোন কোম্পানির গ্রোথ, ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টি আর টিম পারফরম্যান্সকে পরের ধাপে তোলার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
আমরা সবাই জানি, মাসের শুরু আর মাসের শেষ – এই দুই সময়টা যেকোনো কোম্পানির জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময়।
📌 ১–১৫ তারিখ: নতুন টার্গেট, নতুন ক্যাম্পেইন, নতুন প্ল্যান, বিলিং/রিপোর্টিং শুরু, অনেকে অনবোর্ডিং বা কাজ রিসেট করে।
📌 ২৫–৩০ তারিখ: টার্গেট ক্লোজিং, রিপোর্ট ফাইনালাইজেশন, ইনভয়েস, ক্লায়েন্ট আপডেট, মাসিক পারফরম্যান্স অ্যানালাইসিস—সবকিছুই এই সময়ে গুচিয়ে ফেলতে হয়।
- কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়
- ক্লায়েন্ট ডেলিভারি দেরিতে হয়
- ইনটার্নাল টিমের উপর অপ্রয়োজনীয় প্রেশার পড়ে
- এবং শেষ পর্যন্ত কোম্পানির গ্রোথ স্লো হয়ে যায়
এই কারণেই একটা কোম্পানির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ—
নতুন ছুটি নীতিমালা (Policy Summary)
✅ প্রতি মাসের ১–১৫ তারিখের মধ্যে ছুটি নেওয়া যাবে না
✅ প্রতি মাসের ২৫–৩০ তারিখের মধ্যে ছুটি নেওয়া যাবে না
অর্থাৎ, সাধারণ/প্ল্যান করা ছুটি (planned leave) এগুলোর বাইরে রাখতে হবে।
তবে,
⚠️ জরুরি বা একেবারে অনিবার্য পরিস্থিতি থাকলে
· সরাসরি ম্যানেজমেন্টকে অথবা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে জানিয়ে
· প্রয়োজনীয় প্রমাণ/কারণসহ
ছুটি অনুমোদনের জন্য রিকোয়েস্ট করা যাবে।
আমরা কেউই তো মানুষ ছাড়া অন্য কিছু না—হঠাৎ সমস্যা, অসুস্থতা, ফ্যামিলি ইস্যু এগুলো আসতেই পারে।
কোম্পানির নীতি কঠোর হবে, কিন্তু মানবিকতা সবসময়ই থাকবে।
কেন এই নীতিমালা আমাদের সবার জন্য ভালো
আমি এই সিদ্ধান্তটা শুধু “বস” হিসেবে না, বরং একজন টিমমেট হিসেবে ভেবে নেওয়া উচিৎ।
এই নীতিমালার মাধ্যমে—
1. ক্লায়েন্টদের কাছে আমাদের রিলায়াবিলিটি বাড়বে
o মাসের শুরুতে ক্যাম্পেইন, কনটেন্ট, প্রজেক্ট সেটআপ ঠিকমত লাইভ হলে পুরো মাসের রেজাল্ট ভালো আসে।
o মাসের শেষে রিপোর্ট, আপডেট, বিল ফাইনালাইজ ঠিকঠাক হলে ক্লায়েন্ট কনফিডেন্স বাড়ে।
2. টিমের মধ্যে কাজের চাপ সমানভাবে ভাগ হবে
o কেউ হঠাৎ অফ থাকলে অন্যদের উপর অযথা কাজ চাপিয়ে দিতে হয় – এটা কারো জন্যই ফেয়ার না।
o নির্দিষ্ট সময়ে ছুটি সীমিত থাকলে সবাই আগে থেকে প্ল্যান করে কাজ শেষ করতে পারবে।
3. কোম্পানি গ্রোথের গতি বাড়বে
o কনসিস্টেন্ট ডেলিভারি = ক্লায়েন্ট স্যাটিসফেকশন
o ক্লায়েন্ট স্যাটিসফেকশন = রিপিট প্রজেক্ট + রেফারাল + রেভিনিউ গ্রোথ
o রেভিনিউ গ্রোথ = আমরা সবাই মিলে ভালো থাকার সুযোগ
ছুটি তো বন্ধ হচ্ছে না, শুধু প্ল্যানিং বদলাচ্ছে
অনেকে প্রথমে শুনে মনে করতে পারেন—
“অর্থাৎ ছুটি নিতেই পারব না?”
না, বিষয়টা তা না।
🔹 আপনি এখনও ছুটি নিতে পারবেন
🔹 তবে ছুটি প্ল্যান করবেন মাসের ১৬–২৪ তারিখের মাঝে বা যেসব দিন রেস্ট্রিকটেড না
🔹 আগে থেকে প্ল্যান করলে কাজও সেট হবে, টিমও প্রস্তুত থাকবে
আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই,
আপনার পার্সোনাল লাইফ আর প্রফেশনাল লাইফ – দুটোই ব্যালেন্সড থাকুক।
তবে সেই ব্যালান্সটা রাখতে গিয়ে যেন কোম্পানির গ্রোথ, ক্লায়েন্টের আস্থা আর টিমের স্ট্যাবিলিটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়—
এই দায়িত্বটা আমাদের সবার।
শেষ কথা: এটা “আমার” না, “আমাদের” ডিসিশন
এই নীতিমালা আমি একা বসে ঠিক করিনি।
আমাদের ম্যানেজমেন্ট, কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা, ক্লায়েন্ট বিহেভিয়ার, ডেডলাইন প্রেশার—
সবকিছু বিশ্লেষণ করে আমরা এই সিদ্ধান্তে এসেছি।
আমি বিশ্বাস করি,
👉 আমরা যদি মাসের শুরু আর শেষের ১০–১৫ দিনকে “হাই প্রায়োরিটি ওয়ার্ক উইন্ডো” হিসেবে দেখি,
তাহলে শুধু কোম্পানি না, আমাদের নিজের ক্যারিয়ারও অনেক বেশি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।
যেকোনো কনফিউশন, পরামর্শ বা ফিডব্যাক থাকলে
আমাকে সরাসরি ইনবক্স/কল/মিটিং–এ জানাবেন।
আমি শুনতে, বুঝতে এবং প্রয়োজন হলে নীতি আপডেট করতে সবসময়ই প্রস্তুত।
Md. Raquibul Islam (Rakib)
Businessman & Entrepreneur