কর্মক্ষেত্রে একজন কর্মীর আচরণ কেমন হওয়া উচিত

কর্মক্ষেত্রে একজন কর্মীর আচরণ কেমন হওয়া উচিত

জীবনের বাস্তবতা মেনে চলতে গেলে আমাদের অনেকেরই চাকরি করতে হয়। অফিস মানেই নানা রকম মানুষের সঙ্গে কাজ করাযেখানে সবার চিন্তা, দক্ষতা, কাজের ধরন বা মতামত এক হবে না। কিন্তু তবুও, পেশাদার পরিবেশে টিকতে হলে সবাইকে সম্মান দিয়ে, বুঝে-শুনে চলতে হয়। মতের অমিল, দক্ষতার পার্থক্য বা ব্যক্তিগত ইগোকে যদি আমরা কাজে টেনে আনি, তাহলে শুধু পরিবেশটাই নষ্ট হয় না, পুরো টিমের উপর তার প্রভাব পড়ে।

এখানে আমি তুলে ধরছি কর্মক্ষেত্রে একজন দায়িত্ববান পেশাদার কর্মীর আচরণ কেমন হওয়া উচিতসংক্ষিপ্তভাবে, বাস্তব উদাহরণে স্পষ্টভাবে:


. সততাযা হারালে আপনি সব হারান

সততা ছাড়া পেশাগত জীবন দাঁড়ায় না। অফিসের তথ্য, ক্লায়েন্টের ডাটা বা সংবেদনশীল কোনো বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। কেউ অন্যায় করলে চুপ করে থাকা নয়, বরং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা উচিত। অসততা বরদাস্ত করলে সেটাই আপনার পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়।


. পারস্পরিক সম্মানচাপ থাকলেও ভদ্রতা ছাড়বেন না

কাজের চাপে বা ঝামেলায় রাগ হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেটা কখনো সহকর্মীর উপর ঝাড়বেন না। আপনি জুনিয়র বা সিনিয়র যেই হন না কেন, সবার সঙ্গে সম্মানজনক ব্যবহার করুন। ভুল করলে 'Sorry' বলতে শিখুন, আর অন্যের মতের বিরোধিতা হলেও সেটা গ্রহণ করার মনোভাব রাখুন।


. মিটিংসময়মতো উপস্থিতি আর প্রস্তুতির গুরুত্ব

মিটিং মানে শুধু বসে থাকা না। মিটিংয়ে সময়মতো পৌঁছানো, বিষয় সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা রাখা, এবং প্রয়োজনে নিজের মতামত পরিপক্বভাবে প্রকাশ করাএই অভ্যাস গড়ে তুলুন। সক্রিয় অংশগ্রহণ আপনার পেশাদারিত্বেরই প্রকাশ।


. যোগাযোগকথা হোক স্পষ্ট, সংযত প্রাসঙ্গিক

সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় সরাসরি এবং পরিষ্কারভাবে বলুন। অপ্রাসঙ্গিক আলাপ, গসিপ বা অফিসের বাইরে অফিস সংক্রান্ত আলোচনা এড়িয়ে চলুন। ফোন বা ইমেইলের ভাষা হোক সৌজন্যমূলক এবং সংযত। মনে রাখবেন, আপনার কথাই আপনার পরিচয়।


. সময় ব্যবস্থাপনাআপনার সময় মানেই প্রতিষ্ঠানের সময়

সময়মতো অফিসে আসা, কাজ শুরু করা, এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করাএইগুলো হলো একজন কর্মীর ন্যূনতম দায়িত্ব। কফি, লাঞ্চ বা বিরতি হোক নির্ধারিত সময়ে। কারণ, শৃঙ্খলা ছাড়া দক্ষতা অর্থহীন।


. অফিসের লক্ষ্য

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য থাকে। সেগুলো বাস্তবায়নে আপনার ভূমিকাই আপনার আসল মূল্য। নিজের দায়িত্বটুকু গুরুত্ব দিয়ে পালন করুন। "এটা আমার কাজ না" – এই দৃষ্টিভঙ্গি একজন দায়িত্ববান কর্মীর হতে পারে না।


. দায়িত্ববোধনিজের ভুল স্বীকার করতে শিখুন

ভুল হতেই পারে। কিন্তু সেটাকে ঢেকে রাখার চেষ্টা না করে স্বীকার করুন এবং কীভাবে তা ঠিক করা যায়, সেটা ভাবুন। ভুলকে লুকিয়ে রাখলে সেটা একসময় বিস্ফোরণ ঘটাবে। বরং ওপেনলি আলোচনা করে সমাধানে এগিয়ে যান।


. টিমওয়ার্কপছন্দ-অপছন্দ নয়, দলই বড়

সব কাজ আপনার পছন্দের হবে না, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু টিমের সঙ্গে মিলে চলতে হলে মাঝে মাঝে নিজের পছন্দকে পাশ কাটিয়ে টিমের প্রয়োজনটাই আগে ভাবতে হবে। সবার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করাই আপনাকে প্রকৃত পেশাদার করে তোলে।


শেষ কথা

একটা বিষয় মনে রাখুনঅফিস শুধু চাকরি করার জায়গা না, এটা একটা সম্পর্কের জায়গা। যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পেশাদারিত্ব, এবং দায়িত্বশীল আচরণই আপনাকে শুধু একজন ভালো কর্মী নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করবে।


Md. Raquibul Islam (Rakib)
businessman & entrepreneur