নতুন চাকরি: কী করবেন আর কি করবেন না

নতুন চাকরি: কী করবেন আর কি করবেন না

নতুন চাকরির প্রথম দিন, এমনকি পুরো প্রথম বছরটাই, একটা অজানা দৌড়ের মতো লাগে। কখন কী ভুল করছি? কার থেকে শিখব? কোনটা বলা যাবে, কোনটা না? প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরতেই থাকে।

প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে, হাল ছেড়ে দেওয়া খুব সহজ। কিন্তু শুরুতেই যদি কিছু বিষয় মাথায় রাখেন, তাহলে এই যাত্রাটা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। নতুন চাকরির শুরুতে কী করবেন আর কী করবেন নাচলুন দেখে নিই।


প্রশ্ন করতে দ্বিধা করবেন না

নতুন পরিবেশে এসে সব কিছু বুঝে ফেলা সম্ভব নয়। অফিসের নিয়ম-কানুন, কাজের ধরন, ভাষা, এমনকি ইমেইল লেখার ভঙ্গিও ভিন্ন হতে পারে। প্রশ্ন না করে কিছু ধরে নিয়ে কাজ করলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

প্রশ্ন করা কোনো দুর্বলতা না। বরং এটা প্রমাণ করে আপনি দায়িত্বশীল এবং ফলাফল নিয়ে সিরিয়াস। বিশ্লেষক মাহিন আবরার রহমান বলছিলেন, “প্রশ্ন করাটা কর্মক্ষেত্রে ভালো পারফর্ম করার একটি কৌশল।


কাজ নিয়ে নিশ্চিত হন

আপনাকে কোনো কাজ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তার কিছু অংশ ভুলে গেছেনএমনটা হতেই পারে। ক্ষেত্রে কল্পনার ওপর ভর না করে, সরাসরি আবার জেনে নিন। কাজের উদ্দেশ্য, সময়সীমা, ফলাফলসব পরিষ্কার করে নিন।

ভেবেচিন্তে কাজ শুরু করলে ভুল কম হয়। যেকোনো অস্পষ্টতা দ্রুত দূর করতে হবে। আপনিই যদি জানেন না, ঠিক কী করতে বলা হয়েছে, তাহলে বাকিদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যাবে না।


🤝 সামাজিকতা থেকে দূরে থাকবেন না

কাজের বাইরের ছোটখাটো সামাজিকতাযেমন টিম লাঞ্চ, অফিস পার্টি, বা কোনো সহকর্মীর বাসার আড্ডাএগুলো হালকা মনে হলেও গুরুত্বপূর্ণ। এসব জায়গায় মানুষ মানুষকে ভালোভাবে চেনে।

আপনি যদি একদম নতুন হন, তাহলে এই সুযোগগুলো কাজে লাগান। এতে সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠবে, যা কাজের পরিবেশ সহজ করে দেবে।

একজন মানবসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা নিয়মিত বিভিন্ন অফিস ইভেন্ট আয়োজন করি। এগুলোতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে টিমস্পিরিট তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে কাজেও।


💪 নিজেকে দুর্বল ভাববেন না

নতুন কাজে ভুল হতেই পারে। আপনি সব জানেন নাএটা খুবই স্বাভাবিক। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান আলাদা, নিয়মকানুন ভিন্ন, সংস্কৃতি ভিন্ন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যা শিখেছেন, সবসময় তা এখানে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। কিন্তু নিয়ে হতোদ্যম হওয়ার কিছু নেই। ভুল থেকেই শেখা যায়। আর পরিশ্রম দিয়ে দক্ষতা তৈরি করা যায়।

সাজিদা সাইয়েদুল সুরমার মতে, “কর্মক্ষেত্রে নিজের মতামত প্রকাশ করলে এবং নিজের প্রতি আস্থা রাখলে অভিজ্ঞতা বাড়ে, কাজের মানও উন্নত হয়।


🧭 একজন গাইড খুঁজে নিন

সব অফিসে মেন্টর প্রোগ্রাম থাকে না। তাই নিজেই এমন একজনকে খুঁজে বের করুন, যিনি অভিজ্ঞ, সৎ এবং আপনাকে গাইড করতে পারেন। যাঁর কাছ থেকে শেখা যাবে কাজের জটিলতা সামলানোর কৌশল।

এই মানুষটি হতে পারেন আপনার টিম লিডার, কোনো সিনিয়র কলিগ, এমনকি অন্য ডিপার্টমেন্টের কেউযাঁর অভিজ্ঞতা রপ্তকৃত জ্ঞান আপনাকে শক্ত ভিত গড়তে সাহায্য করবে।


🧠 বাস্তবসম্মত থাকুন

নতুন চাকরি মানেই সব কিছু চমৎকার হবেএমনটা ভাবা ভুল। প্রতিটি অফিসে সীমাবদ্ধতা থাকে, প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মাঝে ফারাক থাকে। তাই নিজের প্রত্যাশাকে যুক্তির ভিতরে রাখুন।

বোনাস, ছুটি বা প্রমোশনএগুলো যদি নীতিমালায় না থাকে, তবুও অন্যদের দেখে হতাশ হওয়া উচিত নয়। নিজের লক্ষ্য ঠিক করে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কোনো কাজ সামলাতে পারবেন না জেনেও তা নেওয়া, শুধু নিজেকে প্রমাণ করার জন্যএটা বিপজ্জনক। আবার খুব ছোট লক্ষ্য ধরেও ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন না। ভারসাম্যই মূল চাবিকাঠি।


🔚 উপসংহার

নতুন চাকরির প্রথম বছরটা শেখার সময়। এখানে ভুল হবে, সংশোধনও হবে। কেউ একদিনে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে না। কিন্তু যদি আপনি জানতে চান, বুঝতে চান, মানিয়ে নিতে পারেনতাহলে এই নতুন চাকরিই হতে পারে আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সুযোগ।

পরিশ্রম করুন, শেখার আগ্রহ রাখুন, এবং নিজেকে সময় দিন। এক সময় দেখবেন, আপনি নিজেই নতুনদের গাইড করছেন।