অফিসে যে ১০টি অপেশাদার আচরণ এড়িয়ে চলা উচিত
পেশাগত জীবনে সফল হতে চাইলে শুধু কাজ জানলেই হবে না, জানতে হবে কাজের পরিবেশ ও সহকর্মীদের প্রতি সম্মান দেখানো, দায়িত্বশীল আচরণ করা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখাও। অনেক সময় অসচেতনতায় এমন কিছু আচরণ করি, যা আমাদের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নিচে এমন ১০টি অপেশাদার আচরণের কথা বলা হলো, যেগুলো যত দ্রুত এড়িয়ে চলা যায়, ততই ভালো।
১. গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুধুই মেসেজে বলা
কাজের অগ্রগতি বা সাধারণ আপডেট জানাতে মেসেজ ঠিক আছে। কিন্তু অফিসের গুরুতর কোনো সিদ্ধান্ত বা স্পর্শকাতর আলোচনার বিষয় হলে সেটি ইমেইল বা সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
📌 পরামর্শ: গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথা মেসেজে বললেও পরবর্তীতে একটি ইমেইলে বিষয়টি নিশ্চিত করে নিন—যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ না থাকে।
২. সব কৃতিত্ব নিজের করে নেওয়া
দলগত কোনো প্রকল্পে সফলতা এলে সেটিকে ‘আমি করেছি’ বলা যতটা ভুল, ‘আমরা করেছি’ বলা ততটাই পেশাদার। সবাই মিলে কাজ করেছি—এমন মনোভাবই সহকর্মীদের আস্থা বাড়ায়।
📌 পরামর্শ: টিমের অবদান স্বীকার করুন। কার কোথায় কীভাবে সহায়তা করেছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
৩. বারবার অজুহাত দেওয়া
ভুল করা মানুষের স্বভাব। কিন্তু সেই ভুল স্বীকার না করে অজুহাত দাঁড় করানোটা দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। এতে সহকর্মীদের আস্থা হারানোর ঝুঁকি থাকে।
📌 পরামর্শ: ভুল হলে স্বীকার করুন, শেখার চেষ্টা করুন, সামনে এগিয়ে যান। তবে সব কিছুতে ‘দুঃখিত’ বলাটাও পেশাদারিত্ব নয়—বিবেচনা করুন কোন পরিস্থিতিতে দুঃখপ্রকাশ প্রয়োজন, আর কোনটিতে নয়।
৪. সহকর্মীর নামে গোপনে বদনাম রটানো
অন্যের পেছনে সমালোচনা করা আপনার ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এমন আচরণ থেকে আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।
📌 পরামর্শ: কারো প্রতি অসন্তোষ থাকলে সরাসরি গিয়েই তাকে বলুন। সম্মানজনকভাবে সমাধানের পথ খুঁজুন।
৫. অফিস ড্রেস কোড উপেক্ষা করা
চটকদার বা দৃষ্টিকটু পোশাক যেমন অস্বস্তিকর, তেমনই পেশাদার পরিবেশের সঙ্গে যায় না। পোশাকের মধ্যেও আপনার পেশাদারিত্ব ফুটে উঠবে।
📌 পরামর্শ: যদি পোশাক নিয়ে দ্বিধায় পড়েন, তাহলে সহকর্মীদের পর্যবেক্ষণ করুন বা ন্যূনতম ফর্মাল মান বজায় রাখুন।
৬. ইমেইল বা মেসেজের জবাবে অনীহা
দীর্ঘ সময় ইমেইলের উত্তর না দেওয়া শুধু অপেশাদারই নয়, অনেক সময় অন্যের কাজ থমকে যাওয়ার কারণও হয়ে দাঁড়ায়।
📌 পরামর্শ: নির্দিষ্ট সময়ে মনোযোগী হয়ে কাজ করুন। কাজের বিরতিতে বা শেষে ইমেইল ও মেসেজগুলোর উত্তর দিয়ে দিন।
৭. সবসময় অগোছালো ডেস্ক
অগোছালো ডেস্ক আপনার কাজের প্রতি উদাসীনতা প্রকাশ করে। একটি পরিচ্ছন্ন, গুছানো টেবিল কাজেও মনোযোগ বাড়ায় এবং অন্যদের মাঝে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে।
📌 পরামর্শ: ডেস্কে পরিবার, প্রিয় মুহূর্ত বা পোষা প্রাণীর একটি ছোট ছবি রাখতে পারেন, যা আপনাকে মনোবল জোগাবে।
৮. মিটিং বা কাজের সময় ফোনে ব্যস্ত থাকা
প্রতিবার ফোনের নোটিফিকেশন চেক করা মানে আপনি অন্যের প্রতি মনোযোগী নন। এতে সহকর্মীদের আপনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না—এমন বার্তা যেতে পারে।
📌 পরামর্শ: কাজের সময় ফোন সাইলেন্ট রাখুন, নোটিফিকেশন চেকের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করুন।
৯. নিয়মিত অফিসে দেরি করে আসা
এক-দুইদিন ব্যতিক্রম হতেই পারে। কিন্তু নিয়মিত অফিসে দেরি করা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক এবং অন্যের কাজেও বিঘ্ন ঘটায়।
📌 পরামর্শ: দেরি হতে পারে—এটা আগে থেকেই জানিয়ে দিন। প্রয়োজনে সকালে বের হওয়ার রুটিন কিছুটা বদলান।
১০. অসুস্থ হয়েও অফিসে আসা
অসুস্থ অবস্থায় কাজ করতে গেলে কাজের গুণমান যেমন কমে, তেমনি সহকর্মীদের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। নিজেকে ‘সব সময় অফিসে আসতে হবে’ প্রমাণ করার চাপ ছাড়ুন।
📌 পরামর্শ: অসুস্থ হলে অফিসে জানিয়ে দিন এবং প্রয়োজনীয় ছুটি নিন। এতে আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আরও ভালোভাবে কাজে ফিরতে পারবেন।
উপসংহার
পেশাদার আচরণ মানেই শুধু টাই পরা, সময়মতো রিপোর্ট জমা দেওয়া না—এটা আপনার মানসিকতা, সততা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ। উপরের প্রতিটি পয়েন্ট একটু একটু করে খেয়াল রাখলেই আপনি হবেন এমন একজন, যাকে শুধু দক্ষ কর্মী নয়—একজন সম্মানিত সহকর্মী হিসেবেও বিবেচনা করা হবে।