ROI না বুঝলে মার্কেটিং ক্যাম্পেইনই লস — Raquibul Islam-এর ফিল্ড নোটস
কন্টেন্ট শুধু সেলসের জন্য নয়—এটা আপনার ব্র্যান্ডের ভয়েস। প্রতিদিন পৃথিবীতে ২৫০+ বিলিয়ন কন্টেন্ট আপলোড হয়। এই ভিড়ে আপনারটা পড়াবে কে? সহজ উত্তর: আপনি—যদি কন্টেন্টকে সঠিকভাবে “পড়াতে” পারেন।
আমার ক্যাম্পেইন ফ্রেমওয়ার্ক
১) স্ট্র্যাটেজি
কেন, কার জন্য পণ্য তৈরি করছি, আমার ব্র্যান্ড পারসোনালিটি কী, এই পণ্য কোন ধরনের কাষ্টমারের জন্য তৈরি।—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আগে আপনাকে বের করতে হবে। কোল্ড অডিয়েন্সকে আপনি টার্গেট করে “বিক্রি” করতে গেলে বাজেট পুড়বে। আগে attention এবং engagement তৈরি করুন এর পরে সেখান থেকে বিক্রির চেষ্টা করুন।
২) অ্যাড ক্রিয়েটিভ
সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই স্ক্রল করে। এখন আপনার কাজ স্ক্রল থামানো। স্ক্রল থামাতে হলে ভিজ্যুয়ালকে প্রথম ১–২ সেকেন্ডেই এমন এটাক্টিভ কিছু দিতে হবে যাতে অডিয়েন্স দেখে ক্রল থামিয়ে আপনার কনটেন্ট দেখে—কনট্রাস্ট, ক্লিয়ার ভ্যালু দিন, এক নজরে বোঝা যায় এমন ডিজাইন তৈরি করুন।
৩) অ্যাড কপি
অডিয়েন্স থামলেই তো হল না—সে কি পড়বে? হেডলাইন/ক্রিয়েটিভ করুন । বড়, পরিষ্কার, একশনে দিন এক লাইন। উদাহরণ: “Buy One Get One” টাইপ ভ্যালু সিগন্যাল—কিন্তু relevant ও সত্যিই ডেলিভারেবল হতে হবে।
৪) কন্টেন্ট
এখানেই কনভার্সন গড়ে ওঠে। কন্টেন্ট কথা বলবে—না হলে সেলস আসে না। আমি কন্টেন্টকে দেখি দুই ভাগে:
- Technical Content: ফিচার, স্পেস, প্রুফ—তথ্যভিত্তিক অংশ।
- Creative Content: ট্রাস্ট গঠন—ব্র্যান্ডকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া, গল্প বলা।
“কন্টেন্ট মানেই শুধু লেখা”—এই ভুল ভাঙুন
কনটেন্ট মুলত আমরা ৩টা ভাগে ভাগ করতে পারি:
- Written: ব্লগ/পোস্ট/পিডিএফ
- Visual: ইমেজ/ভিডিও/অ্যানিমেশন
- Audio: মিউজিক/পডকাস্ট/ভয়েস
কন্টেন্টের কাজ দু’দিকেই: Content to Make a Brand এবং Content to Sell। লক্ষ্য হলো ক্রেতাকে পেইন → গেইন জার্নিতে নেওয়া—তার সমস্যার ভাষা খুঁজে বের করে সমাধানকে সহজভাবে দেখানো।
কেন “স্টোরিটেলিং” কাজ করে
ভাল গল্পে থাকে ৩টি জিনিস—Characters, Conflicts, Solution।
শীতের দিনে জ্যাকেট বিক্রি করতে চাই? আমি লিখি—
“আমি তোমার শীতের ভয় কমাতে তৈরি। বাইরে যেতে ভয় লাগছে? আমাকে সঙ্গে নাও।”
ছোট, বুঝতে সহজ—ইমোশনাল ট্রিগার কাজ করে।
কন্টেন্টের পাওয়ার (একটা শিক্ষামূলক উদাহরণ)
একসময় একটি মিউজিক ডিভাইস লঞ্চে শুধু এক লাইনেই বাজার কাঁপে: “Thousands of songs in your pocket.”
ফিচার ছিল অনেকেরই, কিন্তু এই লাইন—ভ্যালু কল্পনায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল। এখান থেকে আমার শেখা: ফিচারকে ভ্যালুতে অনুবাদ না করলে কনভার্ট হয় না।
ব্লু ওশান ভাবনা: Approach Change + Value Addition
কম দামি পণ্য বিক্রি করলেই “সস্তা” বলবেন না। প্রশ্ন করুন—আমি কি মানুষের জীবন সহজ করছি? কাস্টমারকে ফিল দিন: “I’m not selling a product; I’m selling a solution.” এনগেজমেন্ট বাড়বে, ফেসবুক অকশনে কস্ট কমবে, সেল বাড়বে।
আমার প্র্যাকটিক্যাল চেকলিস্ট
- Audience Heat: কোল্ড → আর্মস → হট, ধাপে ধাপে বার্তা দিন।
- First 2 Seconds: থামাবে কী? (ভিজ্যুয়াল সিগন্যাল + হেডলাইন দিন)
- Single-Minded Message: এক পোস্টে একটাই মূল কথা বলুন।
- Proof Elements: রিভিউ, ডেমো, আগে/পরে, সংখ্যা
- Clear CTA: এখনই কী করবে? (Buy, DM, Learn, Sign up)
- Measure ROI: Hook rate, Hold rate, CTR, CAC, AOV, ROAS—রেগুলারলি ট্র্যাক
শেষ কথা — Raquibul Islam
আজকের মার্কেটিংয়ে আমি “প্রোডাক্ট” নয়, “কন্টেন্ট” আগে বানাই। কারণ কন্টেন্টই ব্র্যান্ডের ভয়েস, আর সেই ভয়েসই গ্রাহককে জার্নির শেষ প্রান্তে—কনভার্সনে—পৌঁছে দেয়।
— লিখেছেন: Raquibul Islam